এইচএসসি ২০২১

ইতিহাস ১ম পত্র এইচএসসি ২০২১ ১ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট সমাধান

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এইচএসসি ২০২১ পরীক্ষার্থী যারা আছো তাদের ১৫ সপ্তাহের ৩০ টি এসাইনমেন্ট এর ১ম এসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে।আজকের এই পোস্টে আমরা ইতিহাস ১ম পত্রের এইচএসসি ২০২১ এর ১ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট সমাধান নিয়ে এসেছি। এখানে আমরা নমুনা প্রশ্ন তৈরি করেছি। তোমরা তোমাদের মত করে সাজিয়ে কিছু এড করে বাদ দিয়ে এসাইনমেন্ট টি করতে পারো। তবে আমরা এখানে ১০০% সঠিক উওর টি লিখেছি।

শ্রেনীঃ এইচএসসি ২০২১

বিষয়ঃ ইতিহাস ১ম পত্র

এসাইনমেন্ট নংঃ ০১

শিরোনাম: ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন, ব্রিটিশ আমল

নির্ধারিত কাজঃ

এসাইনমেন্ট কভার বোর্ড প্রদত্ত

নমুনা উত্তরপত্র

(ক) উত্তর

ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান ইসলামি আন্দোলন হচ্ছে খিলাফত আন্দোলন এর সময়কাল ছিলো ১৯১৯-১৯২৪ । প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয় এবং সেভার্স চুক্তির ( আগস্ট ১০, ১৯২০) অধীনে তুরস্কের ভূখন্ড ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হওয়ায় । স্থানসমূহের ওপর খলিফার অভিভাবকত্ব ইসলামের পবিত্র স্থানসমূহের ওপর খলিফার অভিভাবকত্ব নিয়ে ভারতে আশংকা দেখা দেয় ।

এ কারণে খিলাফত রক্ষা এবং গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপীয় শক্তিগুলির তুরস্ক সাম্রাজ্যকে বাঁচনোর জন্য ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি গোঁড়া সাম্প্রদায়িক আন্দোলন হিসেবে খিলাফত আন্দোলন শুরু হয়। বাংলায় খিলাফত- অসহযোগ আন্দোলন (১৯১৮-১৯২৪ ) একটি গণআন্দোলনে পরিণত হয় এবং এতে হিন্দু ও মুসলমানরা অংশ নেয় । কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে বাংলায় আন্দোলন প্রসার লাভ করে । আন্দোলনের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে বাংলা সরকার ১৯২১ সালের ১৯ নভেম্বর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খিলাফত ও কংগ্রেস স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করে ।

(খ) উত্তর

অসহযোগ আন্দোলনের প্রকৃতি

মহাত্মা গান্ধী । ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ৪ সেপ্টেম্বর নাগপুরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের একটি বিশেষ অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন । ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অসহযোগ আন্দোলন প্রথম একটি বৃহত্তম গণআন্দোলন ছিল । সম্পূর্ণ অহিংস পদ্ধতিতে সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা করে।

ভারতের ব্রিটিশ শাসনকে ব্যর্থ করে দেওয়াই ছিল গান্ধিজির অসহযোগ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য । রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকান্ড ও পাঞ্জাবে সামরিক আইন ক্ষতিকর বলে বিবেচিত দ্বৈত শাসনের কর্ম পরিকল্পনা সহ মন্টেগু চেমসফোর্ড রিপোর্ট খুব অল্প সংখ্যক লোককে ই সন্তুষ্ট করতে পেরেছিল। এতদিন পর্যন্ত সরকারের ন্যায় পরায়ণতা ও নিরপেক্ষ বিচারের আস্থাশীল গান্ধী এখন উপলব্ধি করলেন যে, বাধ্য হয়েই সরকারের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ করতে হবে।

একই সময় মিত্রশক্তি বর্গ ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত সেভরস চুক্তির কঠোর শর্তাবলী ভারতীয় মুসলমানদের ক্ষুব্ধ করে তুলে। মুসলমানগণ খিলাফত আন্দোলন শুরু করে এবং গান্ধী নিজেকে তাদের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যরূপে একাত্ম করার সিদ্ধান্ত নেন । গান্ধীর উঁচুস্তরের রাজনৈতিক কৌশল ভারতে অসহযোগ আন্দোলনে মুসলমানদের সমর্থন লাভ নিশ্চিত করে ।

(গ) উত্তর

খিলাফত আন্দোলন অসহযোগ আন্দোলনের ফলাফল

খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাব ব্যাপক। খিলাফত |আন্দোলন প্যান ইসলামি উপর কম ছিল তবে জাতীয়তাবাদী – আন্দোলনে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে । খিলাফত আন্দোলনের নেতারা পশ্চিমা শিক্ষাবিদ মুসলমান ও উলামাদের সাথে ধর্মীয় প্রতীক হিসাবে রাজনৈতিক চুক্তি করে খিলাফত তৈরি করেছিলেন । ভারতবর্ষের মুসলমানদের মধ্যে খিলাফত আন্দলনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জন্ম দেয় যিনি ১৯১৪ সালে অটোমনে আক্রমণের ঘোষণায় জন্মগ্রহন করেছিলেন। খিলাফত নেতারা যারা যুদ্ধের সময় কারাবন্দী ছিলেন তারা ইতিমধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশ নিয়েছিলেন । ১৯১৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করেছিল । অসহযোগ আন্দোলন ভারতীয় জাতীয়তাবাদ এর উন্মেষ ঘটায় । এটি কংগ্রেসের প্রভাব বৃদ্ধি করে ।

(ঘ) উত্তর

• লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট ও বৈশিষ্ট্য

লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলার কৃতি সন্তান শেরে বাংলা একে ফজলুল হক যে প্রস্তাব পাস করেন সে প্রস্তাব লাহোর প্রস্তাব নামে খ্যাত । লাহোর প্রস্তাবে বলা হয় ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সন্নিহিত স্থানসমূহকে অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে ।

প্রয়োজন মতো সীমা পরিবর্তন করে যেসব স্থানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেসব অঞ্চলসমূহের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে । এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত সার্বভৌম ।লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি রাষ্ট্রের রূপান্তরিত হয়।

লাহোর প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য : ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিমলীগের অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক “ লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন বিপুল পরিমাণ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ২৪ মার্চ প্রস্তাবটি গৃহীত হয় । নিচে লাহোর প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ দেওয়া হল:

১. ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে এর উত্তর পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলে – মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা গুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে

২. উল্লিখিত স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের অধীন ইউনিট বা প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে ।

৩. ভারতের অন্যান্য হিন্দু অঞ্চলগুলোর সমন্বয়ে পৃথক হিন্দুরাষ্ট্র গঠিত হবে ।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরপ্রস্তাবের তাৎপর্য সাথে পরামর্শ ভিত্তিতে তাদের স্বার্থ অধিকার ও রক্ষার জন্যসংবিধানের পর্যাপ্ত ক্ষমতা রাখতে হবে । ৫. প্রতিরক্ষা, পরস্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ে ক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর উপর ন্যস্ত থাকবে।

৫. প্রতিরক্ষা, পরস্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ে ক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর উপর ন্যস্ত থাকবে।

অবশেষে বলা যায় যে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব অবিভক্ত ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে । লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হবার পর মুসলিম লীগের রাজনীতিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ উপস্থিত হয়

Alamin Hossain Meraj

Assalamu Alaikum. I am Al-Amin Hossain Meraj, the founder of Education Helpline. I am studying CSE. I like to help students with various updates related to education. The guidelines and support that I did not get during my admission test, now I will help all the students in Bangladesh with all the guidelines and information for the admission test. I believe education is free. Learn with heart and soul.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!