এইচএসসি ২০২১

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এইচএসসি ২০২১ ১ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট সমাধান

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এইচএসসি ২০২১ পরীক্ষার্থী যারা আছো তাদের ১৫ সপ্তাহের ৩০ টি এসাইনমেন্ট এর ১ম এসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে।আজকের এই পোস্টে আমরা ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্রের এইচএসসি ২০২১ এর ১ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট সমাধান নিয়ে এসেছি। এখানে আমরা নমুনা প্রশ্ন তৈরি করেছি। তোমরা তোমাদের মত করে সাজিয়ে কিছু এড করে বাদ দিয়ে এসাইনমেন্ট টি করতে পারো। তবে আমরা এখানে ১০০% সঠিক উওর টি লিখেছি।

শ্রেনীঃ এইচএসসি ২০২১

বিষয়ঃ ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র

এসাইনমেন্ট নংঃ ০১

শিরোনাম: ব্যবসায়ের মৌলিক ধারণা

নির্ধারিত কাজঃ

এসাইনমেন্ট কভার বোর্ড প্রদত্ত

নমুনা উত্তরপত্র

ব্যবসায়ের ধারণাঃ

সাধারণভাবে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে। অর্থাৎ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষ যেসব বৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাকে ব্যবসায় বলে।

পরিবারের সদস্যদের জন্য খাদ্য উৎপাদন করা হাঁস-মুরগী পালন করা, সবজি চাষ করাকে ব্যবসায় বলা যায় না। কিন্তু যখন কোন কৃষক মুনাফার আশায় ধান চাষ করে বা সবজি ফলায় তা ব্যবসায় বলে গণ্য হবে। তবে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যবসায় বলে গণ্য হবে। এগুলো দেশের আইনে বৈধ ও সঠিক উপায়ে পরিচালিত হয়। সুতরাং যে কাজটিকে আমরা ব্যবসায় লব তার চারটি মৌলিক উপাদান আছে। যেমনঃ অর্থনৈতিক কাজু, মুনাফার উদ্দেশ্য, ঝুঁকি, বৈধতা। এই চারটি উপাদান না থাকলে কোন কিছু কৈ ব্যবসায় বলা যাবে না। ব্যবসায়ের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যাকে অন্য সব পেশার থেকে আলাদা করেছে। ব্যবসার সাথে জড়িত পণ্য বা সেবার অবশ্যই আর্থিক মূল্য থাকতে হবে। ব্যবসায়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল এর সাথে ঝুঁকির সম্পর্ক। মূলত মুনাফা অর্জনের আশাতেই ব্যবসায়ী ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি অবশ্যই সেবার মনোভাব থাকতে হবে।

ব্যবসায়ের আওতা/পরিধিঃ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদন, বণ্টন ও এর সহায়ক যাবতীয় কাজের সমষ্টিকে ব্যবসায় বলে। এ উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে এবং বণ্টন সংক্রান্ত কাজ বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। বণ্টনের ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় বা পণ্য বিনিময় মুখ্য কাজ হিসেবে গণ্য হয়। অন্যান্য কাজ পণ্য বিনিময়ে সহায়ক কার্যাবলি হিসাবে বিবেচিত হয়।

১। শিল্পঃ যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং একে উপযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য প্রস্তুত করা হয় তাকে শিল্প বলে। শিল্প উৎপাদনের বাহন। উৎপাদনের প্রক্রিয়া ও কর্মপ্রচেষ্টার ভিন্নতার কারণে শিল্পকে প্রধানত নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রজনন শিল্পঃ যে শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টি বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রজনন শিল্প বলে। যেমনঃ নার্সারী, হ্যাচারী, হাঁস-মুরগীর খামার প্রভৃতি।

নিস্কাশন শিল্পঃ যে শিল্প প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি বা বায়ু হতে সম্পদ উত্তোলন বা আহরণ করা হয় তাকে নিস্কাশন শিল্প বলে। খনিজ পদার্থ উত্তোলন, মৎস্য শিকার এ ধরনের শিল্পের উদাহরণ।

নির্মাণ শিল্পঃ যে শিল্পের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ, দালান কোঠা ইত্যাদি নির্মাণ করা হয় তাকে নির্মাণ শিল্প

বলে।

প্রস্তুত শিল্পঃ শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাঁচামাল বা অর্ধ প্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে প্রস্তুত করার প্রচেষ্টাকে প্রস্তুত শিল্প বলে। বয়ন শিল্প, ইস্পাত শিল্প প্রভৃতি।

সেবা পরিবেশক শিল্পঃ যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও আরামদায়ক করার কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে সেবা পরিবেশক শিল্প বলে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান এরূপ শিল্পের আওতাভুক্ত।

২। বাণিজ্যঃ শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোগকারী বা ব্যবহারকারীর নিকট পৌছানের ক্ষেত্রে যে সকল প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য তা দূরীকরণের জন্য গৃহীত যাবতীয় কাজের সমষ্টিকে বাণিজ্য বলে। বাণিজ্যের আওতাভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপঃ

ক) ট্রেড বা পণ্য বিনিময়ঃ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় কার্যকে ট্রেড বা পণ্য বিনিময় বলে। এরূপ বিনিময় বা ক্রয়-বিক্রয় বণ্টনের ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তর কার্য সম্পন্ন করে ব্যক্তিগত বাধা দূর করে। পণ্য বিনিময়কে দুইভাগে ভাগ করা যায়ঃ

অভ্যত্মরীণ বাণিজ্যঃ একটি দেশের ভৌগলিক সীমানার মধ্যে যে ক্রয়-বিক্রয় কার্য অনুষ্ঠিত হয় তাকে অভ্যনত্মরীণ বাণিজ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই একই দেশের অধিবাসী হয়। প্রকৃতি অনুযায়ী একে পাইকারী ও খুচরা এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

বৈদেশিক বাণিজ্যঃ দুই দেশের মধ্যে বা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে ক্রয়-বিক্রয় কার্য সম্পাদিত হয় তাকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলে। এরূপ বাণিজ্য তিন ধরনের যথা: আমদানি, রপ্তানী, পুন:রপ্তানী।

খ) পণ্য বিনিময় সহায়ক কার্যাবলীঃ পণ্য বণ্টনের ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় কার্য সুষ্ঠভাবে সমাধানের বেলায় আইনগত, ঝুঁকিগত, স্থানগত, কালগত ও জ্ঞানগত বাধা দেখা দেয়। এসকল বাধা দূরীকরণের জন্য যথাসময়ে ব্যাংক, বীমা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, বাজারজাতকরণ প্রসার ইত্যাদি কার্যের সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে।

৩। প্রত্যক্ষ সেবাঃ অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবিগণ প্রত্যক্ষভাবে সেবাকর্ম বিক্রয় করেন। এদের কাজকে সাধারণভাবে ব্যবসায়ের আওতাধীন মনে করা হলেও প্রকৃত অর্থে তা পেশা বা বৃত্তি হিসাবে গণ্য হয়। তবে কয়েকজন ডাক্তার মিলে ক্লিনিক ব্যবসায় বা কয়েকজন উকিল মিলে একটি ফার্ম বা প্রকৌশলীরা মিলে ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম গঠন করতে পারেন; যা প্রত্যড়া সেবা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে সঙ্গত কারণেই ব্যবসায়ের আওতায় আসে। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন, বণ্টন ও এর সহায়ক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সকল কাজই এর আওতাধীন। ব্যবসায়ের কার্যকলাপকে বাদ দিয়ে তাই বর্তমানকালে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে চিন্তাই করা যায় না।

ব্যবসায়ের কার্যাবলী প্রধানত মুনাফা অর্জনকে সামনে রেখে ব্যবসায়ের সকল কার্যাবলি পরিচালিত হয়। নিম্নে ব্যবসায়ের কার্যাবলি আলোচনা করা হল।

১/ উৎপাদনঃ উৎপাদন ব্যবসায়ের প্রধান কাজ। বিক্রয়ের জন্য পণ্য বা সেবা সামগ্রী তৈরি 8 করাকে উৎপাদন বলে। উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হয় মুলধন, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, শ্রমিক ও সংগঠকের

২/ ক্রয়ঃ ক্রয় ব্যবসায়ের অন্যতম কাজ। উৎপাদনের কাঁচামাল ছাড়াও নিজস্ব ব্যবহার বা পুনঃ বিক্রয়ের জন্য পণ্য দ্রব্য বা সেবা সামগ্রী ক্রয় করতে হয়। পণ্য-দ্রব্য বা সেবা সামগ্রী ক্রয়ের মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা সৃষ্টি হয়।

৩/ বিক্রয়ঃ ব্যবসায়ের একটি আবশ্যকীয় কাজ হচ্ছে পণ্যের ক্রেতা ও বিক্রেতাকে একত্রিত করা। বিক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর হয়। পণ্য বা সেবা নির্ধারণ, ক্রেতা অনুসন্ধান, মূল্য নির্ধারণ বিক্রয়ের সাথে জড়িত।

৪/ অর্থসংস্থানঃ সাধারণ অর্থে ব্যবসায়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করাকে অর্থ সংস্থান বলে। কিন্তু ব্যাপক অর্থে ব্যবসায়ের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য অর্থ সংগ্রহ, অর্থ সংরক্ষণ, সংগৃহীত অর্থের সুষ্ঠুব্যবহার সংক্রান্ত সকল কার্যাবলীকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলা হয়।

৫/ পরিবহনঃ পরিবহন পণ্য বা সেবার স্থানগত উপযোগ ও চাহিদা সৃষ্টি করে। এর আাধ্যমে পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানো হয়। এভাবে পণ্য উৎপাদনকারীর নিকট থেকে চূড়ান্ত ভোগকারীর নিকট পৌছে। পরিবহনের কারণে চীনের তৈরী বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স দ্রব্য সামগ্রী আমরা ব্যবহার করতে পারছি। আবার আমাদের দেশের চিংড়ি মাছ ও চা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ভোগ করতে পারছে। তাই পরিবহন ব্যবসায়ের স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করে থাকে।

৬/ প্রমিতকরণঃ প্রমিতকরণের মাধ্যমে পণ্যের গুণাগুণ, আকার, রং, স্বাদ ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে পণ্য বিক্রয়ের জন্য স্থির করা হয়। ফলে ব্যবসায়ের প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং বিক্রয় কার্যে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।

৭/ পর্যায়িতকরণঃ মান অনুযায়ী পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করাকে পর্যায়িতকরণ বলা হয়। সাধারণত ওজন, আকার ও গুণাগুণ অনুযায়ী পর্যায়িতকরণ করা হয়। ফলে বিক্রয় সহজ হয়।

৮/ মোড়কীকরণঃ ব্যবসায় পণ্য সামগ্রীকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করা এবং নষ্ট বা ভেঙ্গে যাওয়া থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে কিছু দ্বারা আবৃত করাকে মোড়কীকরণ বলা হয়। শিল্পজাত পণ্য, যেমন- ফ্রিজ, টেলিভিশন, সাবান এবং কৃষিজাতপণ্য যেমন দুধ, মাছ, মাংস ইত্যাদির বিক্রয় ও ক্রেতাদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা মোড়কীকরণের উপর নির্ভর করে।

ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্তমান বিশ্বে ব্যবসায়ের গুরুত্ব এত বেশী যে তা বাড়িয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসাবে গণ্য হলেও এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি সবকিছুই বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র ব্যবসায়ী ও ক্রেতারাই উপকৃত হয় না, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের প্রতিটি মানুষ উপকৃত হয়ে থাকে। নিম্নে ব্যবসায়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:

১। সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহারঃ দেশের সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের ওপর জাতীয় উন্নয়ন নির্ভরশীল। সকল দেশেই ব্যবসায় দেশের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। গাছ, বাঁশ ইত্যাদি থেকে মন্ড তৈরী করা হয় এবং যা দিয়ে প্রস্তুত হয় কাগজ। তাই কাগজ লিখে একজন শিক্ষার্থী তা ফেলে দেয় বা ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রয় করে। এই অব্যবহৃত কাগজ প্যাকেজিং শিল্পে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে তা থেকে নতুন পণ্য উৎপাদিত হয়। এভাবে নানান অমূল্যবান জিনিসকেও ব্যবসায়ীরা মূল্যবান সম্পদে পরিণত করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

২। মুলধন গঠনঃ ব্যবসায় হতে সঞ্চিত অর্থ একত্রিত করে এবং অন্যান্য উৎস হতে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যবসায় মূলধন গঠন করে এবং কার্যক্রম পরিচালনা করে। অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশ মূলধন গঠন ও বিনিয়োগে ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি করে।

৩। মাথাপিছু ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিঃ অর্থ উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবসায় মাথাপিছু এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ের উন্নতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হয়।

৪। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারঃ ব্যবসায়ের প্রয়োজনে ও সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটে। এই উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন ও পণ্যের মানোন্নয়ন সম্ভব হয়। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায় ও ব্যবসায়ের প্রতিযোগিতার সামর্থ্য বাড়ে।

৫। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিঃ দেশের ব্যবসায় তথা শিল্প বাণিজ্যের প্রসারের ফলে সরকার বিভিন্ন খাত হতে প্রচুর রাজস্ব আদায় করতে পারে। এতে সরকারের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বৃদ্ধি পায় এবং জনগণ তার সুফল ভোগ করে।

৬। যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নঃ আজ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে তার অধিকাংশই ব্যবসায়কে কেন্দ্র করে। তাছাড়া ব্যবসায় ক্রমাগত এ ব্যবস্থা উন্নয়নের সাথে জড়িত।

৭। গবেষণা ও উন্নয়নঃ পরিবর্তিত বিশ্বে ক্রমাগত পরিবর্তিত হলো মানুষের চাহিদা, রুচি ও অভ্যাস। তার সাথে তাল মিলিয়ে পণ্য সেবায়ও কম পরিবর্তন আসছে না। তাই বাজারে টিকে থাকার জন্য নিয়মিত পণ্য, সেবা ও পদ্ধতিগত গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যবসায় জড়িত রয়েছে।

জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবসা এর ভূমিকা অপরিসীম

জীবন ধারণের উদ্দেশ্য যখন কোন ব্যক্তি কোন কাজে নিয়োজিত হয় তখন তাকে বৃত্তি বলে। অন্য দিকে যখন বিশেষ কোন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জ্ঞান বা দক্ষতাকে জীবিকা উপার্জনের উপায় হিসাবে গ্রহণ করে তাকে পেশা হিসাবে গণ্য করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবসায় জীবিকা অর্জনের উপায় হিসাবে গণ্য হয়ে আসছে। বর্তমানকালেও বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই বৃত্তি বা পেশা হিসাবে ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কারণ জীবিকা অর্জনের উপায় হিসাবে চাকরীর সুযোগ খুবই সীমিত। নিম্নের যৌক্তিকতা থেকে জীবিকা উপার্জনের উপায় হিসাবে ব্যবসায়ের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়

১. সাধারণ মানুষ স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসায় শুরু করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

২. ছোট বড় নানা ধরণের ব্যবসায়কে জীবিকা উপার্জনের উপায় হিসাবে গ্রহণ করার সুযোগ থাকে।

৩. চাকুরীতে উন্নতি লাভের সুযোগ সীমিত কিন্তু ব্যবসায়ে তা ব্যাপক। ফলে শ্রম দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়।

৪. একটি ব্যবসায়ের মাধ্যমে শুধু একজন ব্যক্তিরই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় না, বরং আরো অনেকের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এভাবে ব্যবসায়ের ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

৫. স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য ব্যবসায় একটি পছন্দনীয় জীবিকা অর্জনের উপায় বা পেশা।

Alamin Hossain Meraj

Assalamu Alaikum. I am Al-Amin Hossain Meraj, the founder of Education Helpline. I am studying CSE. I like to help students with various updates related to education. The guidelines and support that I did not get during my admission test, now I will help all the students in Bangladesh with all the guidelines and information for the admission test. I believe education is free. Learn with heart and soul.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!